ক্রিপ্টো প্রতারণার শিকার? পশ্চিমবঙ্গে অভিযোগ কোথায় ও কী ভাবে করবেন
ক্রিপ্টোকারেন্সিতে প্রতারিত হলে একই দিনে দুটো কাজ করুন: পুলিশে অভিযোগ দায়ের করুন, আর যে ওয়ালেট অ্যাড্রেসে টাকা গিয়েছে সেগুলো প্রকাশ্যে নথিবদ্ধ করে রাখুন।
অভিযোগ ফৌজদারি তদন্তের রাস্তা খোলে। প্রকাশ্য নথিভুক্তি কাজ করে সঙ্গে সঙ্গে, আর টাকার যে অংশে ব্যাঙ্ক পৌঁছাতেই পারে না, সেখানে। দুটো আলাদা কাজ, একটি অন্যটির বিকল্প নয়।
প্রথম কয়েক ঘণ্টাই আসল। আর একটা কথা আগেই বলে রাখা ভালো, কারণ এখানেই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ শুরুর আগে মরে যায়: অভিযোগ পাঠানো আর অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়া এক জিনিস নয়। আইন নিজেই বলে দিয়েছে দুটোর মাঝখানে কী কী করতে হয়।
এক নজরে
- আর্থিক সাইবার প্রতারণার জন্য জাতীয় হেল্পলাইন 1930, আর অভিযোগ দায়ের হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (cybercrime.gov.in)-এ। পোর্টালের নিজের FAQ-তে "cryptocurrency crimes" নাম ধরে তালিকাভুক্ত।
- পোর্টালে ফর্ম ভরার সময় আপনি নিজে রাজ্য বেছে দেন, আর পোর্টাল স্পষ্ট বলে — অভিযোগ সেই রাজ্যের পুলিশের কাছেই যাবে। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হলে পশ্চিমবঙ্গ বাছুন।
- ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, 2023-এর ধারা 173 আপনাকে তিনটে জিনিস দেয়: এলাকা নির্বিশেষে অভিযোগ দেওয়ার অধিকার, ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পাঠানো তথ্যে তিন দিনের মধ্যে সই করার শর্ত, আর নথিভুক্ত তথ্যের বিনামূল্যে প্রতিলিপি।
- থানা যদি নথিভুক্ত করতেই না চায়, একই ধারার উপধারা (4) রাস্তা বলে দিয়েছে: ডাকযোগে, লিখিতভাবে পুলিশ সুপারের কাছে — তাতেও না হলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে।
- রিজার্ভ ব্যাঙ্কে গিয়ে লাভ নেই। RBI-র অভিযোগ ব্যবস্থা কেবল তার নিয়ন্ত্রিত সংস্থার বিরুদ্ধে — ব্যাঙ্ক, NBFC, পেমেন্ট সিস্টেম পার্টিসিপ্যান্ট। ভুয়ো ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম এর কোনওটাই নয়।
- ওয়ালেট অ্যাড্রেস, ট্রানজ্যাকশন হ্যাশ আর গোটা চ্যাটের স্ক্রিনশট ছাড়া অভিযোগের হাতে কোনও মাল থাকে না।
প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কী করবেন
আর টাকা পাঠাবেন না। বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ শেষ একটা পেমেন্ট করে ফেলেন, কারণ বলা হয় টাকা তুলতে গেলে "ট্যাক্স", "প্রসেসিং ফি" বা "আনলকিং চার্জ" লাগবে। ওই টাকাটা আর ফেরে না।
তারপর এই ক্রমে:
- প্রতিটি লেনদেনের প্রাপক ওয়ালেট অ্যাড্রেস আর ট্রানজ্যাকশন হ্যাশ (TXID) কপি করুন। আপনার ওয়ালেট বা এক্সচেঞ্জের হিস্ট্রিতেই আছে। গোটা অভিযোগে এটাই সবচেয়ে দামি তথ্য।
- সব কিছুর স্ক্রিনশট নিন, মুছে যাওয়ার আগে। পুরো হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম কথাবার্তা, যে প্রোফাইল যোগাযোগ করেছিল, প্ল্যাটফর্মের সাইট, যে ড্যাশবোর্ডে বানানো লাভ দেখানো হত। এই সাইটগুলো কয়েক দিনেই উঠে যায়।
- 1930-এ ফোন করুন, আর একই সঙ্গে আপনার ব্যাঙ্ককে জানান। কোনও ধাপে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা UPI ব্যবহার হয়ে থাকলে দুটো একসঙ্গে করা দরকার — টাকা আটকানোর কাজটা ব্যাঙ্কই করে।
- যে এক্সচেঞ্জ থেকে পাঠিয়েছেন তাদের জানান, যাতে তারা প্রাপক অ্যাড্রেসটি চিহ্নিত করে রাখে।
- cybercrime.gov.in-এ অভিযোগ দায়ের করুন, তারপর সাইবার ক্রাইম থানায় গিয়ে এফআইআরের কথা বলুন।
কারও কথায় দূর থেকে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণের অ্যাপ ইনস্টল করে থাকলে সেটি এখনই আনইনস্টল করুন এবং নেট ব্যাঙ্কিংয়ের পাসওয়ার্ড বদলান।
কোথায় অভিযোগ করবেন
জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল — cybercrime.gov.in
পোর্টালটি চালায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন ভারতীয় সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C)। তিনটি আলাদা বিভাগ — মহিলা ও শিশু সংক্রান্ত অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা, অন্যান্য সাইবার অপরাধ। ক্রিপ্টো প্রতারণা পড়ে শেষ দুটির মধ্যে; পোর্টালের FAQ-তে "cryptocurrency crimes" নাম ধরেই লেখা।
অভিযোগ করতে একটি বৈধ ভারতীয় মোবাইল নম্বর লাগবে, তাতে OTP আসবে, আর OTP-র আয়ু আধ ঘণ্টা। প্রমাণ আপলোড করলে পোর্টাল প্রতিটি ফাইলের একটি হ্যাশ ভ্যালু দেয় — এটা আপনার পক্ষে যায়, কারণ পরে কেউ বলতে পারবে না ফাইল বদলে গেছে।
একটা জিনিস পোর্টাল নিজেই স্পষ্ট করে দেয়, আর অনেকে সেটা পড়েন না: অভিযোগ যাবে সেই রাজ্যের পুলিশের কাছে যে রাজ্যটি আপনি ফর্মে বেছে দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার নিজের সংসদীয় জবাবেই মনে করিয়ে দেয় যে সংবিধানের সপ্তম তফসিল অনুযায়ী পুলিশ রাজ্য তালিকার বিষয় — তদন্ত রাজ্যেরই কাজ। পশ্চিমবঙ্গে বসে অন্য রাজ্য বেছে ফেললে ফাইলটা ভুল দরজায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।
1930 — আর সেটা আসলে কোন টাকায় পৌঁছায়
1930 টোল-ফ্রি, আর এর পিছনে আছে কেন্দ্রের CFCFRMS ব্যবস্থা। সরকারের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী এই এক প্ল্যাটফর্মে রাজ্য পুলিশ, বড় ব্যাঙ্ক, পেমেন্ট ওয়ালেট, ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ আর ই-কমার্স সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে, যাতে টাকার গতি থামানো যায়; আটকানো টাকা আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত দেওয়া হয়।
তালিকায় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের নাম থাকাটা আপনার কাজে লাগে — অভিযোগে কোন এক্সচেঞ্জ থেকে পাঠিয়েছেন সেটা নাম ধরে লিখুন, আর প্রাপক অ্যাড্রেস দিন। ব্যবস্থার হাতে ধরার মতো কিছু না দিলে ব্যবস্থা কিছুই ধরে না।
সাইবার ক্রাইম থানা আর এফআইআর
পোর্টালের অভিযোগ আর এফআইআর এক জিনিস নয়। তাই রেফারেন্স নম্বর আর কাগজপত্র নিয়ে নিজে যান আপনার নিকটবর্তী থানায়, বা আপনার জেলার সাইবার ক্রাইম থানায়, আর এফআইআর দায়েরের কথা বলুন। এফআইআর নম্বর লিখে রাখুন।
এই ধরনের প্রতারণায় মামলা চলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, 2023-এর ধারা 318 অনুযায়ী — প্রতারণা। উপধারা (4), অর্থাৎ প্রতারণা করে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া, সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড আর জরিমানার কথা বলে। কেউ পুলিশ, সিবিআই বা শুল্ক দফতরের অফিসার সেজে টাকা নিয়ে থাকলে ধারা 319-ও যোগ হয়।
অভিযোগ দায়ের করতে টাকা লাগে না, উকিলও লাগে না।
ধারা 173 আপনাকে যা দেয়, আর যা করতে বলে
এইটেই এই পাতার আসল কাজের অংশ। 2024 সালের 1 জুলাই থেকে ফৌজদারি প্রক্রিয়া চলে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, 2023 (BNSS) অনুযায়ী, আর এফআইআরের ধারাটি এখন 173। তার ভিতরে তিনটে লাইন ক্রিপ্টো মামলার জন্য সোজা কাজে লাগে।
এলাকা কোনও অছিলা নয়। ধারা 173(1) বলছে আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য দেওয়া যায় "অপরাধ যে এলাকায় ঘটেছে সেটা নির্বিশেষে"। ক্রিপ্টো প্রতারণায় অপরাধ ঠিক কোন থানা এলাকায় ঘটল, সেটা কেউ বলতে পারে না — টেলিগ্রামের প্রোফাইল কোথায় বসে, সার্ভার কোন দেশে, কিছুই জানা নেই। ওই কারণ দেখিয়ে আপনাকে ফেরানোর জায়গা আইন রাখেনি।
ইমেল পাঠিয়ে বসে থাকলে কাগজে কিছুই ওঠে না। একই উপধারা বলছে, ইলেকট্রনিক মাধ্যমে দেওয়া তথ্য নথিবদ্ধ হবে তখনই, যখন তিন দিনের মধ্যে আপনি তাতে সই করবেন। এই একটা শর্তের জন্য অসংখ্য অভিযোগ কোথাও পৌঁছায় না — লোকে মেল পাঠিয়ে অপেক্ষা করেন, আর ফাইল খোলেই না। মেল বা পোর্টালে পাঠানোর পরে তিন দিনের মধ্যে গিয়ে সই করে আসুন।
কাগজ হাতে না পেলে ধরে নিন কাজ হয়নি। ধারা 173(2) অনুযায়ী নথিভুক্ত তথ্যের একটি প্রতিলিপি আপনাকে "সঙ্গে সঙ্গে, বিনা খরচে" দিতে হবে। চেয়ে নিন, আর কপিটা সরিয়ে রাখুন।
থানা যদি অভিযোগ নিতেই না চায়
এখানে আইন আপনাকে একটা মাপা রাস্তা দিয়েছে, আর সেটা জানা থাকলে দর কষাকষির দরকার পড়ে না।
ধারা 173(4) অনুযায়ী থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার তথ্য নথিবদ্ধ করতে না চাইলে বিষয়টির সারমর্ম লিখিতভাবে, ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের কাছে পাঠাতে পারেন। তিনি যদি দেখেন তথ্যে আমলযোগ্য অপরাধের প্রকাশ আছে, তবে হয় নিজে তদন্ত করবেন, নয়তো অধীনস্থ কোনও অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেবেন। তাতেও কাজ না হলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা যায়।
"ডাকযোগে" শব্দটা আইনেই আছে, তাই ডাকেই পাঠান — রেজিস্ট্রি করে, প্রাপ্তি স্বীকারপত্র রেখে। মুখের কথায় কোনও প্রমাণ থাকে না।
অভিযোগ দায়ের হয়ে যাওয়ার পরেও যদি কিছু না নড়ে, পোর্টালে রাজ্য ধরে ধরে নোডাল অফিসার আর গ্রিভান্স অফিসারের তালিকা প্রকাশ করা আছে। পশ্চিমবঙ্গের সারিতে দু'জনেরই পদ লেখা রয়েছে সাইবার ক্রাইম উইং-এর — একজন ডিআইজি সাইবার ক্রাইম, আর গ্রিভান্স অফিসার হিসেবে ওই উইংয়ের ডিজি ও আইজিপি — আর যোগাযোগ নম্বর 033 22021200। এটি নতুন অভিযোগ করার নম্বর নয়; দায়ের হয়ে যাওয়া অভিযোগ আটকে আছে, এই কথা বলার জায়গা।
কী কী নথি জোগাড় করবেন
- যে ওয়ালেট অ্যাড্রেসে পাঠিয়েছেন, প্রতিটি
- প্রতিটি লেনদেনের ট্রানজ্যাকশন হ্যাশ (TXID), তারিখ ও সময় সহ
- গোটা কথাবার্তার স্ক্রিনশট, কাটাছেঁড়া না করে
- প্ল্যাটফর্ম, প্রোফাইল বা বিজ্ঞাপনের হুবহু URL
- ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, UPI ও নেট ব্যাঙ্কিং রসিদ, ক্রিপ্টো কেনার রসিদ
- যোগাযোগে ব্যবহৃত নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেল আইডি ও টেলিগ্রাম হ্যান্ডল
- ঘটনার একটি লিখিত সময়রেখা: প্রথম যোগাযোগ, প্রতিটি পেমেন্ট, শেষ যোগাযোগ
বিয়ের সাইট থেকে শুরু হওয়া ক্রিপ্টো প্রতারণা
I4C-র সরকারি সতর্কবার্তার তালিকায় 2025-এর 31 অক্টোবরের একটি বার্তা আছে, যেটি এই পাতার পাঠকদের একটা বড় অংশের নিজের গল্প।
সতর্কবার্তা অনুযায়ী প্রতারকরা ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটে — Jeevansaathi.com, Shaadi.com, Matrimony.com, এবং আঞ্চলিক সাইটগুলিতেও — ভুয়ো পরিচয়ে প্রোফাইল খোলে, চুরি করা বা এডিট করা ছবি দেয়, আর নিজেকে দেখায় বিদেশে বা সেনাবাহিনীতে কর্মরত প্রতিষ্ঠিত পেশাদার হিসেবে। ডেটিং অ্যাপেও একই কাজ। তারপর বয়স আর আয়ের ফিল্টার দিয়ে সচ্ছল মানুষ বেছে নেওয়া হয়, কয়েক সপ্তাহ সম্পর্ক জমানো হয়, আর তারপর আসে ক্রিপ্টোতে বড় লাভের প্রস্তাব।
কাজের কথাটা এই: বিয়ের সম্বন্ধ আর লগ্নির পরামর্শ যেখানে একই মানুষের কাছ থেকে আসছে, সেখানে দ্বিতীয়টি জাল। ছবি দিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখুন, আর মুখোমুখি দেখা হওয়ার আগে কারও কথায় এক টাকাও পাঠাবেন না — সতর্কবার্তায় সরকারের পরামর্শ ঠিক এটাই।
আর একটা কথা: I4C-র সতর্কবার্তায় সোজা ভাষায় লেখা আছে — "There is no concept of Digital Arrest under any Indian Laws." পুলিশ, সিবিআই, নার্কোটিকস, ইডি বা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নাম নিয়ে কেউ ভিডিও কলে আপনাকে আটকে রাখলে সেটা অপরাধ, আইন নয়।
টাকা পাঠানোর আগে যাচাই করে নেওয়ার জায়গা
cybercrime.gov.in-এ I4C-র একটি সাসপেক্ট রিপোজিটরি আছে, যেটি নাগরিকদের দায়ের করা অভিযোগ থেকেই তৈরি। সন্দেহভাজন মোবাইল নম্বর বা ইমেল, এবং আলাদা করে ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ ওখানে যাচাই করা যায়। কেউ ট্রেডিংয়ের নামে টাকা চাইলে নম্বরটা আগে ওখানে ফেলে দেখুন। এটি প্রমাণ নয়, ইঙ্গিত — কিন্তু প্রথম টাকা পাঠানোর আগে বিনামূল্যে যতটুকু করা যায়, এটাই।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কে গিয়ে সময় নষ্ট করবেন না
এখানে অনেকের কয়েক সপ্তাহ চলে যায়, তাই কথাটা সোজা বলা দরকার।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অভিযোগ ব্যবস্থা — Reserve Bank – Integrated Ombudsman Scheme — চলে নিয়ন্ত্রিত সংস্থার বিরুদ্ধে: ব্যাঙ্ক, NBFC আর পেমেন্ট সিস্টেম পার্টিসিপ্যান্ট। ভুয়ো ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বা নকল ট্রেডিং অ্যাপ এর কোনওটাই নয়।
তবু একটা জায়গা আছে, আর সেটা আলাদা করে বোঝা দরকার: আপনার নিজের ব্যাঙ্ক যদি প্রতারণার খবর পেয়েও বসে থাকে, সেই আচরণ নিয়ে RBI-র ব্যবস্থায় যাওয়া চলে। প্রতারক প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে নয় — আপনার ব্যাঙ্কের গাফিলতির বিরুদ্ধে।
সেবির SCORES-এও একই যুক্তি: অভিযোগ করতে গেলে সেবি-নিবন্ধিত সংস্থার নাম দিতে হয়। যে অ্যাপ আপনাকে "সেবি-রেজিস্টার্ড" বলে বিশ্বাস করিয়েছিল, সে ওই তালিকার কোথাওই নেই।
রাস্তা ফৌজদারি: 1930, পোর্টাল, আর সাইবার ক্রাইম থানা।
টাকা কি ফেরত পাওয়া যায়?
কখনও কখনও। যতটা প্রচার হয়, তার চেয়ে অনেক কম।
সবটা ঝুলে থাকে একটি প্রশ্নে: টাকা ছড়িয়ে পড়ার আগে কমপ্লায়েন্স দায়বদ্ধতা আছে এমন কোনও জায়গায় পৌঁছেছে কি না — কেন্দ্রীভূত এক্সচেঞ্জ, পেমেন্ট প্রসেসর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। পৌঁছালে, আর অভিযোগ দায়ের থাকলে, একটা রাস্তা থাকে। কিন্তু টাকা মিক্সারে ঢুকলে বা সহযোগিতা করে না এমন নেটওয়ার্কে চলে গেলে রাস্তাটা প্রায় বন্ধ।
কেউ আপনাকে দায়িত্ব নিয়ে শতকরা হিসেব দিতে পারে না। একটা লেনদেনও না দেখে ফোনে যে হিসেব দিচ্ছে, সে আপনাকে কিছু বিক্রি করছে।
"টাকা ফিরিয়ে দেব" — এই দ্বিতীয় ফাঁদ
ক্ষতি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরে কেউ যোগাযোগ করে বলবে টাকা উদ্ধার করে দেবে। কখনও উকিল পরিচয়ে, কখনও সাইবার সেলে বা এক্সচেঞ্জে চেনা লোক আছে বলে। চাইবে আগাম পেমেন্ট, "কোর্ট ফি", "রিকভারি চার্জ", বা আপনার কম্পিউটারে রিমোট অ্যাক্সেস।
এরা একই চক্র, নয়তো ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা কিনে নিয়েছে। লক্ষণ বদলায় না:
- যোগাযোগটা ওদের দিক থেকে আসে
- কাজের আগেই টাকা চায়
- ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয়
- ভিতরের লোক আছে বলে দাবি করে
কোনও সরকারি সংস্থা আপনার টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আগাম পেমেন্ট চায় না।
ওয়ালেট অ্যাড্রেস প্রকাশ্যে নথিবদ্ধ করবেন কেন
তদন্ত এগোয় প্রক্রিয়ার গতিতে। প্রকাশ্য নথিভুক্তি কাজ করে সঙ্গে সঙ্গে।
Chainabuse-এ অ্যাড্রেস, হ্যাশ আর সাইটটি নথিবদ্ধ করলে সেই এন্ট্রি পৌঁছে যায় এক্সচেঞ্জের কমপ্লায়েন্স টিম, তদন্তকারী, আর যে কেউ টাকা পাঠানোর আগে ওই অ্যাড্রেস খুঁজছেন, সবার কাছে। Chainabuse বিনামূল্যে, সবার জন্য খোলা, আর একই অ্যাড্রেসের সব রিপোর্ট একজায়গায় জোড়ে — বিচ্ছিন্ন কয়েকটা ঘটনা তখন একটা দৃশ্যমান প্যাটার্ন হয়ে দাঁড়ায়।
অনেক সময় লাভটা যিনি রিপোর্ট করলেন তাঁর হয় না। হয় সেই মানুষটির, যিনি দু'সপ্তাহ পরে খুঁজতে বসে সতর্কবার্তাটা পেয়ে যান।
সাধারণ প্রশ্ন
1. পশ্চিমবঙ্গে ক্রিপ্টো প্রতারণার অভিযোগ কোথায় করব?
আর্থিক সাইবার প্রতারণার জন্য 1930-এ ফোন করুন এবং cybercrime.gov.in-এ অভিযোগ দায়ের করুন, রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ বেছে নিয়ে। তারপর রেফারেন্স নম্বর ও কাগজপত্র নিয়ে নিজের নিকটবর্তী থানায় বা জেলার সাইবার ক্রাইম থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করান।
2. পোর্টালে রাজ্য বাছাই এত জরুরি কেন?
কারণ পোর্টাল নিজেই বলে, অভিযোগ সেই রাজ্যের পুলিশ দেখবে যে রাজ্যটি আপনি ফর্মে বেছে দিয়েছেন। ভারতে তদন্ত রাজ্যের এলাকা — সংবিধানের সপ্তম তফসিল অনুযায়ী পুলিশ রাজ্য তালিকার বিষয়। ভুল রাজ্য বাছলে ফাইলটি ভুল বাহিনীর কাছে যাবে।
3. ইমেলে অভিযোগ পাঠিয়ে দিলে কি সেটা নথিভুক্ত হয়ে যায়?
না, নিজে থেকে নয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ধারা 173(1) অনুযায়ী ইলেকট্রনিক মাধ্যমে দেওয়া তথ্য নথিবদ্ধ হয় তখনই, যখন তিন দিনের মধ্যে আপনি তাতে সই করেন। তাই পাঠিয়ে অপেক্ষা করবেন না — তিন দিনের মধ্যে গিয়ে সই করে আসুন।
4. অপরাধ কোথায় ঘটেছে জানি না — থানা কি সেই কারণে ফিরিয়ে দিতে পারে?
ধারা 173(1) বলছে আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য দেওয়া যায় "অপরাধ যে এলাকায় ঘটেছে সেটা নির্বিশেষে"। ক্রিপ্টো প্রতারণায় ঘটনাস্থল প্রায় কখনওই জানা থাকে না, আর সেটি অভিযোগ না নেওয়ার কারণ হতে পারে না।
5. এফআইআরের কাগজ কি হাতে পাব?
হ্যাঁ। ধারা 173(2) অনুযায়ী নথিভুক্ত তথ্যের একটি প্রতিলিপি আপনাকে সঙ্গে সঙ্গে, বিনা খরচে দিতে হবে। কাগজ হাতে না পেলে চেয়ে নিন — ওটাই আপনার একমাত্র প্রমাণ যে অভিযোগ নথিবদ্ধ হয়েছে।
6. বিয়ের সাইটে পরিচয়, তারপর ক্রিপ্টোতে লগ্নির প্রস্তাব — এটা কি চেনা ধরন?
হ্যাঁ, এবং I4C-র 2025 সালের অক্টোবরের সরকারি সতর্কবার্তায় এটি আলাদা করে বর্ণিত। প্রতারকরা ম্যাট্রিমনিয়াল ও ডেটিং প্ল্যাটফর্মে ভুয়ো পরিচয়ে প্রোফাইল খুলে, বয়স ও আয়ের ফিল্টার দিয়ে সচ্ছল মানুষ বেছে নিয়ে, সম্পর্ক জমিয়ে তারপর ক্রিপ্টোতে টাকা ঢালার প্রস্তাব দেয়।
7. Chainabuse-এ রিপোর্ট করলে কি পুলিশে অভিযোগের দরকার নেই?
দুটোই দরকার। পুলিশে অভিযোগ ভারতে ফৌজদারি তদন্তের রাস্তা খোলে। Chainabuse-এ রিপোর্ট করলে ওয়ালেট অ্যাড্রেসটি সঙ্গে সঙ্গে যে কোনও দেশের এক্সচেঞ্জ আর তদন্তকারীদের কাছে দৃশ্যমান হয়ে যায়।
ওয়ালেট অ্যাড্রেসটি Chainabuse-এ নথিবদ্ধ করুন — বিনামূল্যে, কয়েক মিনিটের কাজ।