বাংলাদেশে ক্রিপ্টো প্রতারণার অভিযোগ কোথায় করবেন
ক্রিপ্টোকারেন্সিতে প্রতারিত হলে একই দিনে দুটো কাজ করুন: থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিন, এবং যেসব ওয়ালেট অ্যাড্রেসে টাকা গেছে সেগুলো প্রকাশ্যে নথিবদ্ধ করে রাখুন।
থানার অভিযোগ ফৌজদারি প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রকাশ্য নথি কাজ করে সঙ্গে সঙ্গে — অ্যাড্রেসটি এক্সচেঞ্জের কমপ্লায়েন্স টিম, তদন্তকারী এবং যে মানুষটি এই মুহূর্তে ওই একই চক্রে টাকা পাঠাতে যাচ্ছে, সবার চোখে পড়ে। দুটো আলাদা কাজ, একটা দিয়ে অন্যটা চলে না।
প্রথম কয়েক ঘণ্টার দামই সবচেয়ে বেশি। অ্যাড্রেস, ট্রানজেকশন আইডি আর ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবের নম্বর যত আগে লিখিতভাবে জমা পড়ে, টাকা ছড়িয়ে যাওয়ার আগে কোথাও আটকে দেওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।
এক নজরে
- অভিযোগ শুরু হয় থানায়। কিন্তু জিডি আর এজাহার এক জিনিস নয় — জিডি সাধারণ ডায়েরিতে তোলা রেকর্ড, মামলা রুজু হয় এজাহারে। এই পার্থক্য না বুঝে বহু ভুক্তভোগী মাসখানেক পরে জানতে পারেন কেসটি শুরুই হয়নি।
- সাইবার অপরাধের বিশেষায়িত ইউনিট আছে: সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার এবং ঢাকায় ডিএমপির সিটি–সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ, যার অধীনে ডিজিটাল ফরেনসিক ও ই-ফ্রড ডেস্ক আছে।
- ৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবা — পুলিশের অধীনে, বিনামূল্যে, তাৎক্ষণিক বিপদের জন্য। প্রতারণা ঘটে যাওয়ার পর ফোন করলে থানাতেই পাঠানো হবে।
- বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৭ সাল থেকে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আসছে, আর ৩০ জুলাই ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে এ ধরনের ক্রিপ্টো ট্রেডিং ও এমএলএম প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রকের অনুমোদিত নয়। মানে — ওই প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেওয়ার নিয়ন্ত্রক আপনি পাবেন না।
- সেই সতর্কবার্তা আপনার অভিযোগের পথ বন্ধ করে না। আপনি অভিযোগ করছেন প্রতারণার, ক্রিপ্টো কেনার নয়।
- বিটিআরসি আপনার টাকা ফেরানোর জায়গা নয় — তারা টেলিকম ও ইন্টারনেট সেবা নিয়ে গ্রাহক অভিযোগ নেয়, আর্থিক প্রতারণার তদন্ত করে না।
প্রথম কয়েক ঘণ্টায় যা করবেন
আর টাকা পাঠাবেন না। প্রায় প্রতিটি ভুক্তভোগী শেষ একবার টাকা পাঠান — বলা হয় ট্যাক্স বাকি, কমিশন বাকি, বা "উইথড্র আনলক" ফি লাগবে। ওই টাকাটা আর ফেরে না।
এরপর এই ক্রমে:
- প্রতিটি লেনদেনের গন্তব্য ওয়ালেট অ্যাড্রেস আর ট্রানজেকশন আইডি (TXID) কপি করুন। ওয়ালেট বা এক্সচেঞ্জের হিস্ট্রিতেই আছে। অভিযোগের সবচেয়ে দামি তথ্য এটাই।
- সব স্ক্রিনশট নিয়ে নিন, মুছে যাওয়ার আগে। পুরো হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম কথাবার্তা, যে প্রোফাইল থেকে যোগাযোগ হয়েছে, প্ল্যাটফর্মের ওয়েবসাইট, আর "লাভ" দেখানো ড্যাশবোর্ড। এসব সাইট কয়েক দিনেই উঠে যায়।
- ব্যাংক বা এমএফএস প্রোভাইডারকে জানান। বিকাশ, নগদ বা রকেটে টাকা গেলে সঙ্গে সঙ্গে হেল্পলাইনে ঘটনা লিখিয়ে কমপ্লেইন নম্বরটি টুকে রাখুন।
- যে এক্সচেঞ্জ থেকে পাঠিয়েছেন সেখানে রিপোর্ট করুন, যাতে গ্রহীতা অ্যাড্রেসটি তাদের সিস্টেমে চিহ্নিত হয়।
- থানায় গিয়ে অভিযোগ দিন — স্পষ্ট বলুন আপনি মামলা করতে চান।
অভিযোগ কোথায় করবেন
থানা — এবং জিডি বনাম এজাহারের পার্থক্য
যেকোনো থানায় অভিযোগ দেওয়া যায়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিজেদের সাইটে জিডি ফরম ডাউনলোডের জন্য রেখেছে — লিখিত জিডিই থানার স্বাভাবিক ভর্তি-প্রক্রিয়া।
কিন্তু এখানেই বেশিরভাগ কেস আটকে যায়। জিডি হলো সাধারণ ডায়েরিতে তোলা একটা রেকর্ড। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাধারণ ডায়েরি রাখতে হয় এবং থানায় আসা সব অভিযোগ ও নালিশ তাতে তুলে রাখতে হয় — পুলিশ আইন, ১৮৬১-এর ৪৪ ধারা। এটা প্রমাণ করে আপনি নির্দিষ্ট তারিখে পুলিশকে জানিয়েছেন, কিন্তু তদন্ত শুরু করে না। মামলা রুজু হয় অন্য খাতায়: আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা অনুযায়ী লিখিত ও স্বাক্ষরিত হয়ে নথিবদ্ধ হলে — সেটাই এজাহার — আর তখনই ১৫৬ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়াই পুলিশ তদন্ত করতে পারে।
আপনার পক্ষে একটা কথা আছে: মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার প্রতারণা, কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে আমলযোগ্য হিসেবেই তালিকাভুক্ত। কোন ধারায় মামলা হবে সেটা ঠিক করবে পুলিশ ও আদালত, আপনি নন — তাই ধারা নিয়ে তর্ক নয়, ঘটনাটা গুছিয়ে বলুন।
তাই থানায় গিয়ে "জিডি করতে এসেছি" বলবেন না। বলবেন প্রতারণা হয়েছে, নির্দিষ্ট টাকা নির্দিষ্ট হিসাবে গেছে, এবং আপনি মামলা করতে চান। কাগজপত্র নিয়ে যান — প্রিন্ট করা, সঙ্গে পেনড্রাইভও। এজাহার না নেওয়া হলে জিডির নম্বর ও তারিখ নিয়ে রাখুন; সেটা নিয়েই পরের ধাপে যেতে হবে।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর অধীনে সাইবার পুলিশ সেন্টার অনলাইন অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ ও পরামর্শের কাজ করে; সিআইডিতে আলাদা একটি ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম শাখাও আছে। যোগাযোগের হালনাগাদ তালিকা cid.gov.bd-তে এবং বাংলাদেশ পুলিশের police.portal.gov.bd-এর সিআইডি পাতায় আছে — ফোন করার আগে দেখে নিন, এসব নম্বর বদলায়।
সাইবার পুলিশ সেন্টারে যোগাযোগ আর থানার অভিযোগ — দুটোই করুন। কেন্দ্রীয় ইউনিটে কারিগরি সামর্থ্য বেশি, কিন্তু মামলা রুজু হয় থানায়।
ডিএমপি সিটিটিসি — সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কাজের তালিকায় সাইবার ক্রাইম আছে, আর ডিএমপির দপ্তর-তালিকায় আলাদা করে সিটি–সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ রয়েছে — ভেতরে ডিজিটাল ফরেনসিক এন্ড ই-ফ্রড এবং ইন্টারনেট রেফারেন্স ডেস্ক। গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম ডিভিশনের অধীনে একটি ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমও আছে।
ঢাকার ভেতরের ঘটনায়, বিশেষ করে একাধিক ভুক্তভোগী ও বড় অঙ্কের টাকা জড়িত থাকলে, থানার এজাহারের পাশাপাশি এই ইউনিটের দিকে কেসটি যাওয়ার সুযোগ থাকে। তালিকা dmp.gov.bd-তে আছে।
৯৯৯ — জাতীয় জরুরি সেবা
জাতীয় তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী ৯৯৯ দেশের জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর; কল সেন্টারটি চলে পুলিশের অধীনে, ২৪ ঘণ্টা, আর যেকোনো ফোন থেকে কল বিনামূল্যে।
তবে বুঝে নিন এটা কী নয়: আর্থিক জালিয়াতির আলাদা ডেস্ক নয়। প্রতারণা ঘটে যাওয়ার পর ফোন করলে শেষ পর্যন্ত আপনাকে থানাতেই যেতে বলা হবে। প্রতারক এখনও যোগাযোগ রাখছে, হুমকি দিচ্ছে, বা আপনি কোথাও আটকে আছেন — তখন ৯৯৯ ঠিক জায়গা।
কী কী প্রমাণ গুছিয়ে নেবেন
- জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
- যেসব ওয়ালেট অ্যাড্রেসে পাঠিয়েছেন, প্রতিটি
- প্রতিটি লেনদেনের ট্রানজেকশন আইডি বা হ্যাশ, তারিখ ও সময়সহ
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং বিকাশ/নগদ/রকেটের ট্রানজেকশন আইডি ও গ্রহীতা নম্বর
- পুরো চ্যাট ও কল লগের স্ক্রিনশট, কাটাছেঁড়া ছাড়া
- প্ল্যাটফর্ম, প্রোফাইল বা বিজ্ঞাপনের হুবহু ইউআরএল
- যোগাযোগে ব্যবহৃত নাম, নম্বর ও ই-মেইল
- লিখিত সময়ক্রম: প্রথম যোগাযোগ, লেনদেন, শেষ যোগাযোগ
টাকা যে পথে গেছে, অভিযোগ সেই পথেই সাজান
বাংলাদেশে এই পার্থক্যটাই কেসের ভাগ্য ঠিক করে।
বাংলাদেশে ক্রিপ্টো হাতবদল হয় প্রায় পুরোটাই ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি — কোনো "এজেন্ট", "ডিলার" বা "পি-টু-পি সেলার"-এর মাধ্যমে। ফলে প্রায় প্রতিটি ঘটনায় টাকা প্রথমে গেছে একটা স্থানীয় ব্যাংক হিসাবে বা একটা বিকাশ/নগদ নম্বরে, তারপর ক্রিপ্টোতে রূপ নিয়েছে। ওই স্থানীয় হিসাবটাই একমাত্র জায়গা যেখানে টাকা এখনও থামানো যায় এবং যার মালিকের পরিচয় বের করা সম্ভব।
তাই এজাহারে টাকার হিসাব টাকায় লিখুন: কত টাকা, কোন তারিখে, কোন হিসাব বা মোবাইল নম্বরে, কার নামে। প্ল্যাটফর্মের নাম আর ওয়ালেট অ্যাড্রেস সংযুক্তি হিসেবে দিন — প্রমাণ হিসেবে, শিরোনাম হিসেবে নয়। "আমি ক্রিপ্টোতে টাকা হারিয়েছি" দিয়ে শুরু করা অভিযোগ আর "অমুক প্রতারণা করে আমার এত টাকা তার হিসাবে নিয়েছেন" দিয়ে শুরু করা অভিযোগ — দুটোর অগ্রগতি এক রকম হয় না।
বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রিপ্টো নিয়ে যা বলে, আর তাতে আপনার যা করার আছে
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিটকয়েন লেনদেন নিয়ে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দেয় এবং তারপর একই বার্তা বারবার দিয়েছে — অননুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নিয়ে (২০২৩), অতিরিক্ত মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া অনলাইন ব্যবসা নিয়ে (২০২৫), অনলাইন আর্থিক প্রতারণা নিয়ে (১১ মে ২০২৬), আর সর্বশেষ ৩০ জুলাই ২০২৬-এ ক্রিপ্টো ট্রেডিং ও এমএলএম প্ল্যাটফর্মে আর্থিক প্রতারণা নিয়ে।
শেষ বিজ্ঞপ্তিটা পড়ে দেখার মতো। সেখানে Crossmarket.ai নাম ধরে বলা হয়েছে, এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ, লেনদেন বা সদস্য সংগ্রহে অংশ না নিতে — কারণ এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত বা অনুমোদিত নয়।
ব্যবহারিক মানে দুটো।
প্রথমত, যে প্ল্যাটফর্ম আপনার টাকা নিয়েছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নেওয়ার মতো কোনো নিয়ন্ত্রক আপনি পাবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাস্টমার্স ইন্টারেস্ট প্রোটেকশন সেন্টার (১৬২৩৬, [email protected]) অভিযোগ নেয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আচরণ নিয়ে — নিজের ব্যাংক বা এমএফএস প্রোভাইডার অভিযোগ পেয়েও ব্যবস্থা না নিলে সেটা বলার জায়গা এটা। বিদেশি প্ল্যাটফর্ম টাকা ফেরত দেবে কি না, তা এই দপ্তরের হাতে নেই।
দ্বিতীয়ত — এবং এটাই বহু মানুষকে চুপ করিয়ে রাখে — ক্রিপ্টো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান কঠোর হওয়ায় অনেকে ধরে নেন থানায় গেলে উল্টো তাঁরই বিপদ। বাস্তবে আপনি অভিযোগ করছেন প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের — অন্য একজন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আপনার টাকা নিয়েছে। ঘটনার বিবরণ যেভাবে ঘটেছে সেভাবেই লিখুন, বাড়িয়ে বা কমিয়ে নয়। চুপ থাকলে চক্রটি পরের জনের কাছে যায়, আর আপনার টাকার হিসাবও কোথাও থাকে না।
বিটিআরসি অভিযোগের জায়গা নয়
এটা পরিষ্কার থাকা ভালো, কারণ অনেকে এখানেই সময় নষ্ট করেন।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন টেলিকম ও ইন্টারনেট সেবা নিয়ে গ্রাহক অভিযোগ নেয়, নিজের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সিস্টেমও (crm.btrc.gov.bd) চালায় — প্রতারক ওয়েবসাইট বা লিংকের বিষয়ে জানানো যায়। কিন্তু বিটিআরসি আর্থিক প্রতারণার তদন্ত করে না, টাকা উদ্ধার করে না, মামলাও রুজু করে না। একইভাবে সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (grs.gov.bd) সরকারি সেবা নিয়ে অভিযোগের জন্য — অপরাধের জন্য নয়।
অপরাধের অভিযোগ যায় পুলিশের কাছে। এটুকুই।
টাকা কি ফেরত পাওয়া যায়?
মাঝেমধ্যে। যতটা প্রচার করা হয়, তার চেয়ে অনেক কম।
সবকিছু একটা প্রশ্নে দাঁড়িয়ে আছে: টাকা ছড়িয়ে যাওয়ার আগেই কমপ্লায়েন্স বাধ্যবাধকতা আছে এমন কোথাও পৌঁছেছে কি না — একটা কেন্দ্রীয় এক্সচেঞ্জ, একটা পেমেন্ট প্রসেসর, বা দেশের ভেতরে একটা ব্যাংক হিসাব। পৌঁছালে এবং অভিযোগ নথিবদ্ধ থাকলে একটা পথ থাকে। মিক্সার দিয়ে গেলে পথটা খুব সরু হয়ে যায়।
দেশের ভেতরের ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবটাই এখানে সবচেয়ে জরুরি, কারণ ওটার ওপর বাংলাদেশের আদালত ও পুলিশের হাত আছে — বিদেশি ওয়ালেটের ওপর নেই।
কেউ আপনাকে শতকরা হিসাবে সম্ভাবনা বলতে পারবে না। একটা লেনদেনও না দেখে যে ফোনে সংখ্যা বলে দেয়, সে আপনাকে কিছু বিক্রি করছে।
"টাকা ফিরিয়ে দেব" — এই প্রস্তাব থেকে সাবধান
ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর কেউ যোগাযোগ করবে, বলবে টাকা উদ্ধার করে দিতে পারবে। কখনও নিজেকে আইনজীবী বলে পরিচয় দেবে, কখনও বলবে পুলিশে বা এক্সচেঞ্জে তার লোক আছে। চাইবে অগ্রিম টাকা, "কোর্ট ফি", আপনার ওয়ালেটের সিড ফ্রেজ, অথবা কম্পিউটারে রিমোট অ্যাকসেস।
এটা একই চক্র, নয়তো ভুক্তভোগীদের তালিকা কেনা কেউ। লক্ষণ বদলায় না:
- যোগাযোগটা তারা করে, আপনি নন
- কাজ শুরুর আগেই টাকা চায়
- ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয়
- ভেতরের যোগাযোগ আছে বলে দাবি করে
থানায় অভিযোগ করতে টাকা লাগে না, আর কোনো সরকারি সংস্থা টাকা ফিরিয়ে দিতে অগ্রিম ফি চায় না।
ওয়ালেট অ্যাড্রেস প্রকাশ্যে জানিয়ে রাখবেন কেন
মামলা চলে মামলার গতিতে। প্রকাশ্য নথি কাজ করে তখনই।
Chainabuse-এ অ্যাড্রেস, ট্রানজেকশন আইডি আর সাইটের ঠিকানা জানিয়ে রাখলে সেই রেকর্ড এক্সচেঞ্জের কমপ্লায়েন্স টিম, তদন্তকারী এবং টাকা পাঠানোর আগে ওই অ্যাড্রেস খুঁজছেন এমন যে কারও কাছে পৌঁছে যায়। Chainabuse বিনামূল্যে, সবার জন্য খোলা, আর একই অ্যাড্রেসের সব রিপোর্ট একসঙ্গে দেখায় — ফলে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো একটা স্পষ্ট প্যাটার্ন হয়ে ওঠে।
অনেক সময় লাভটা হয় অন্য কারও — যে দুই সপ্তাহ পরে খুঁজতে গিয়ে সতর্কবার্তাটা পায়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
1. বাংলাদেশে ক্রিপ্টো প্রতারণার অভিযোগ কোথায় করব?
থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে শুরু করুন এবং মামলা রুজু করতে চান তা স্পষ্ট বলুন। পাশাপাশি সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে যোগাযোগ করুন; ঢাকার ভেতরের ঘটনায় ডিএমপির সিটি–সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ কাজ করে।
2. ক্রিপ্টো তো বাংলাদেশে অনুমোদিত নয় — তাহলে অভিযোগ করা যাবে?
আপনি অভিযোগ করছেন প্রতারণার, ক্রিপ্টো কেনার নয়। একজন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আপনার টাকা তার হিসাবে নিয়েছে — সেটাই অভিযোগের বিষয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার সতর্ক করেছে, তবে তার সঙ্গে আপনার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সম্পর্ক নেই। ঘটনার বিবরণ যেমন ঘটেছে তেমনই লিখুন।
3. জিডি করলেই কি মামলা হয়ে যায়?
না। জিডি সাধারণ ডায়েরিতে তোলা রেকর্ড — প্রমাণ করে আপনি পুলিশকে জানিয়েছেন, কিন্তু তদন্ত শুরু করে না। আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য ১৫৪ ধারায় নথিবদ্ধ হয়ে মামলা রুজু হলেই তদন্ত শুরু হয়। থানায় গিয়ে এটা স্পষ্ট বলুন।
4. কী কী প্রমাণ লাগবে?
গন্তব্য ওয়ালেট অ্যাড্রেস, প্রতিটি লেনদেনের ট্রানজেকশন আইডি সময়সহ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও বিকাশ/নগদের ট্রানজেকশন আইডি ও গ্রহীতা নম্বর, পুরো চ্যাটের স্ক্রিনশট, প্ল্যাটফর্মের হুবহু ইউআরএল, এবং একটা লিখিত সময়ক্রম।
5. বিকাশ বা নগদে টাকা গেছে — সেটা কি আলাদা করে বলতে হবে?
অবশ্যই, সবার আগে। দেশের ভেতরের ব্যাংক হিসাব বা এমএফএস নম্বরটাই একমাত্র জায়গা যেখানে টাকা এখনও আটকানো যায় এবং মালিকের পরিচয় বের করা সম্ভব। অভিযোগে ওটাই সামনে রাখুন, ওয়ালেট অ্যাড্রেস প্রমাণ হিসেবে দিন।
6. কম টাকা হলে অভিযোগ করে লাভ আছে?
আছে। এই চক্রগুলো বড় পরিসরে চলে, একই হিসাবে ডজনখানেক মানুষের টাকা জমা হয়। আপনার অভিযোগটাই পুরো চক্রের ছবি দেখার শেষ টুকরো হতে পারে।
7. Chainabuse-এ রিপোর্ট করলে কি থানার অভিযোগ লাগবে না?
লাগবে — দুটোই করুন। থানার অভিযোগ ফৌজদারি প্রক্রিয়া শুরু করে; Chainabuse-এর রিপোর্ট অ্যাড্রেসটিকে সঙ্গে সঙ্গে যেকোনো দেশের এক্সচেঞ্জ ও তদন্তকারীর কাছে দৃশ্যমান করে তোলে।
Chainabuse-এ ওয়ালেট অ্যাড্রেসটি জানিয়ে রাখুন — বিনামূল্যে, কয়েক মিনিটেই।